Health and Beauty

Sunday, January 18, 2026

ঘরোয়া উপায়ে চুল পড়ার সমাধান জেনে নিন


ব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ, দূষণ, অনিয়মিত খাবার ও চুলের অযত্নে সব চুল পড়ে যাচ্ছে। চুল পড়ার সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। চুল পড়ে পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়া দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক চুল পড়া রোধে ঘরোয়া উপায়-


তেল মালিশ করুন নিয়মিতঃ

সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন নারকেল তেল, আমলকি তেল বা ক্যাস্টর অয়েল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।


পেঁয়াজের রসঃ

পেঁয়াজের রস চুল পড়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। পেঁয়াজ বেটে রস বের করে মাথার ত্বকে লাগান। ২০-৩০ মিনিট পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার যথেষ্ট।


অ্যালোভেরা ব্যবহারঃ

অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগালে খুশকি কমে এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়ে। সরাসরি তাজা অ্যালোভেরা জেল বা বাজারজাত খাঁটি জেল ব্যবহার করা যেতে পারে।


সঠিক খাদ্যাভ্যাসঃ

প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি ও ই সমৃদ্ধ খাবার যেমন-ডিম, ডাল, শাকসবজি, বাদাম, ফলমূল নিয়মিত খান। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।


ডিম ও দইয়ের হেয়ার মাস্কঃ

একটি ডিমের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ দই মিশিয়ে মাথায় লাগান। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল হয় নরম ও শক্তিশালী।


মানসিক চাপ কমানঃ

অতিরিক্ত স্ট্রেস চুল পড়ার অন্যতম কারণ। নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।


অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী, ঘন ঘন হেয়ার স্টাইলিং ও ভেজা চুল আঁচড়ানো এড়িয়ে চলুন। এ ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

-সংগৃহীত ।

Sunday, June 1, 2025

যে স্কিনকেয়ার সত্যিই কাজে আসে


 আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা দেখি প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে রুপচর্চার নানা খুঁটিনাটি বিষয়। আজ এক টোটকা তো কাল আরেক টোটকা। এই সবগুলোই যে কাজের তা কিন্তু নয়। তবে কিছু পদ্ধতি আসলেই আছে, যা তাৎক্ষণিক ত্বকের সৌন্দর্য  বাড়াতে এবং বয়সের লক্ষণগুলো দূর করতে সাহায্য করে। স্কিনকেয়ারে সত্যিই কাজ করে এমন কিছু টোটকা আজকে শেয়ার করব ।

১ । পোরস বা ছিদ্র লুকাতে বরফের ব্যবহারঃ
একটি বরফের টুকরো ব্যাবহারে মুখের পোরস বা ছিদ্রগুলো ছোট হয় এবং লালচে ভাব কমে যায়। এটি ক্লান্ত ত্বককে সতেজ করার একটি দ্রুত সমাধান।


২ ।  ত্বকের আর্দ্রতায় মধুঃ
মধু অনেক বেশি সেনসেটিভ যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বককে মোলায়েম করে। প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা পেতে এর সামান্য  ব্যাবহারই যথেষ্ট।


৩ । ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরাঃ
জ্বালাপোড়া বা প্রদাহযুক্ত ত্বককে প্রশমিত করতে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ঠাণ্ডা নির্যাস অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।


৪ । চোখের ফোলা ভাব কমাতে গ্রিন টি আইস কিউবঃ
চোখের ফোলাভাব কমাতে গ্রিন টির জুরি নাই । গ্রিন টি মিশ্রিত বরফের কিউব চোখের চারপাশে আলতো করে ঘষলে ফোলাভাব কম হয়।


৫ । ঘরে তৈরি ওটমিল দিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি ও ব্যবহারঃ
ঘরে থাকা ওটমিলের সঙ্গে মধু এবং দই মিশিয়ে মাস্ক তৈরি হয়। এটি সবচেয়ে সংবেদনশীল ত্বককেও কোমল এবং মসৃণ করে।


৬ । ফেসিয়াল মিস্ট হিসেবে গোলাপ জলের ব্যবহারঃ
এই গরমে ত্বকের যত্নে সবাই খুবই চিন্তিত । গরমের সময় ত্বককে আর্দ্র এবং হালকা সুগন্ধযুক্ত রাখতে সারা দিন গোলাপ জল স্প্রে করা যেতে পারে। এটি ত্বককে সতেজ করে তোলে এবং মনোবলকে আরও বাড়িয়ে তোলে।


৭ । ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে টমেটোর রস যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ
উজ্জ্বল ত্বক কে না চায় ! টমেটোর রস ত্বকের কালো দাগ কমাতে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করতে ত্বকে সাহায্য করে। টমেটোর রসে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বককে মৃদু এক্সফোলিয়েশন দেয়। তবে টমেটোর রসে যদি অ্যালার্জি থাকে, তবে এই হ্যাক আপনার জন্য নয়।


৮ । মুখের ত্বক টানটান করতে ডিমের ব্যভারঃ
পুষ্টিগুনে ভরপুর ডিমের সাদা অংশ মুখ মাস্ক হিসেবে  ব্যবহার করলে পোরস ছোট হবে, ত্বক হবে টানটান ।


৯ । অতি ক্লান্ত চোখের জন্য শসার টুকরোঃ
চোখের আরামে, ফোলাভাব কমাতে ঠান্ডা শসার টুকরোগুলো তাৎক্ষণিক রিলিফ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।


১০ । মুখের ব্রনের দাগ দূর করতে আলুর রসঃ
আলুর রস ব্রনের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এতে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বককে মৃদু এক্সফোলিয়েশন দেয় এবং দাগ হালকা করে।



সবাই ভালো ও সুস্থ্য থাকবেন।

Sunday, May 25, 2025

কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ



আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। আর খাসি ও বকরির চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে ২ টাকা করে।

রোববার (২৫ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, ঢাকায় সর্বনিম্ন কাঁচা চামড়ার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৫০ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়ার ক্রয়মূল্য প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে কাঁচা চামড়ার চাহিদা না থাকলে প্রয়োজনে চামড়া রপ্তানি করা যাবে। চামড়া রপ্তানি সংক্রান্ত যে বিধিনিষেধ ছিল, সেটি প্রত্যাহার করেছে সরকার।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে এ বছর ৩০ হাজার টন লবণ বিনামূল্যে মাদ্রাসা  ও এতিমখানায় সরবরাহ করা হবে।

বিরল নবজাতকদের জেনেটিক রোগ শনাক্তে নতুন রক্ত পরীক্ষার উদ্ভাবন


জেনেটিক রোগ আক্রান্ত নবজাতকদের দ্রুত শনাক্তে,  বিজ্ঞানীরা একটি নতুন রক্তভিত্তিক পরীক্ষা (ব্লাড টেস্ট) (Blood Test) তৈরি করেছেন। গবেষকদের দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত অর্থাৎ মাত্র তিন দিনেই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে চিকিৎসা শুরু করার পথকে সহজ করে তুলবে।

সাধারণত, সিস্টিক ফাইব্রোসিস (Cystic fibrosis) থেকে শুরু করে মাইটোকন্ড্রিয়া-সম্পর্কিত (শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র) নানা বিরল জেনেটিক রোগ শনাক্তে জিন পরীক্ষার (জেনোমিক টেস্টিং) (Genomic testing) ওপর নির্ভর করা হয়। কিন্তু এসব পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয় না।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ডেভিড স্ট্রাউড জানান, অনেক সময় জেনেটিক পরীক্ষায় রোগ নির্ণয় না হলে রোগীকে বছরের পর বছর নানা পরীক্ষা করাতে হয়, যাকে আমরা বলি ‘ডায়াগনস্টিক ওডিসি’(diagnostic odyssey) এক কঠিন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এমনকি কিছু পরীক্ষায় শিশুদের শরীর থেকে পেশির নমুনা নিতে হয়, যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকরা রোগীর রক্ত থেকে বিশেষ ধরণের কোষ নিয়ে তাতে থাকা হাজারো প্রোটিন বিশ্লেষণ করেছেন এবং তা সুস্থ মানুষের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ, প্রতিটি জিনই প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে। ফলে, কোন জিনের পরিবর্তনে ক্ষতিকর প্রোটিন তৈরি হচ্ছে আর কোনটা নিরীহ, তা চিহ্নিত করা সহজ হয়।

এই পদ্ধতিকে বলে প্রোটিওমিক বিশ্লেষণ (Proteomics)। এটি একবারেই বহু জিনগত পরিবর্তনের প্রভাব একত্রে বিশ্লেষণ করতে পারে এবং এতে ফল মিলতে সময় লাগে মাত্র কয়েক দিন।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিটি প্রচলিত টেস্টগুলোর চেয়েও ভালোভাবে মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ শনাক্ত করতে পারে। এমন রোগগুলোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর যেখানে জিনগত পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে।

অন্য গবেষক অধ্যাপক ডেভিড থরবার্ন জানান, জেনেটিক টেস্টে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়। আমরা মনে করি, প্রোটিওমিক টেস্ট যোগ করলে তা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এই পরীক্ষায় মাত্র ১ মিলিলিটার রক্ত নিলেই চলে। যেখানে আগে বায়োপসি প্রয়োজন হতো, এখন সেখানে সামান্য রক্তেই হবে কাজ। এতে খরচও তুলনামূলকভাবে কম এবং একাধিক রোগ শনাক্তের সুযোগ থাকায় বাড়তি পরীক্ষারও দরকার হয় না।

গবেষণায় অংশ না নিলেও, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল জেনেটিকসের অধ্যাপক মিশাল মিনচুক বলেন, এই গবেষণা বিরল রোগ শনাক্তে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে রোগী ও চিকিৎসা ব্যবস্থার দু’পক্ষেরই উপকার হবে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (UCL) নিউরোলজির অধ্যাপক রবার্ট পিটসিথলি বলেন, এখন প্রয়োজন আরও বিস্তৃত পরীক্ষা এবং যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় (NHS) এই প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা। এই নতুন পদ্ধতি শুধুমাত্র রোগ শনাক্তেই সহায়ক নয়, বরং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের জন্য দিকনির্দেশনা দিতে পারে। কারণ এটি প্রি-ন্যাটাল জেনেটিক টেস্টের সুযোগও সৃষ্টি করে। 

সূত্র : গার্ডিয়ান ।